বরগুনার আমতলীতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণা করায় এক কবিরাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার মাজার রোড এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার কবিরাজের নাম মনসুর শিকদার। তিনি উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কাঠালিয়া (কুলুরচর) গ্রামের আব্দুর রব শিকদারের ছেলে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর অসুস্থ মাকে চিকিৎসা করেন মনসুর শিকদার। ওই বাড়িতে যাতায়াতের সুযোগে কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন মনসুর। গত ২৮ মার্চ উপজেলার সাহেববাড়ী বাসস্ট্যান্ডে ওই কিশোরীর সঙ্গে মনসুর শিকদারের দেখা হয়। এ সময় কৌশলে কিশোরীকে মনসুর তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে দুই দিন কিশোরীকে আটকে রাখে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে সেখান থেকে আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোবহানের বাসায় ওই কিশোরীকে নিয়ে আসেন মনসুর। খবর পেয়ে কিশোরীর বড় বোন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। গত ১৬ নভেম্বর একই কায়দায় মনসুর ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে আবারও সোবহানের বাসায় দুদিন অবস্থান করেন।
পরে বিয়ে না করায় কিশোরী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আইনগত সহায়তা চেয়ে পটুয়াখালীতে র্যাব-৮ এর ক্যাম্পে আবেদন করে। পরে মনসুরকে আটক করে গতকাল শনিবার রাতেই আমতলী থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। এ ঘটনায় কিশোরীর বড় বোন আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আজ রোববার কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কবিরাজ মনসুর ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে। ওই কিশোরী বলেন, ‘আমার সঙ্গে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে কবিরাজ মনসুর শিকদার। বিয়ের প্রলোভনে দিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমি এর বিচার চাই। ’
বিষয়টি নিশ্চিত করে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘আসামিকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
<p>সম্পাদক: কাজী মফিজুল ইসলাম</p>
Copyright © 2026 বরিশাল প্রতিদিন. All rights reserved.