ময়মনসিংহে ছেলের প্রেমের অপরাধে মা লাইলী আক্তারকে দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রেমিকার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা হলেন- খোকন মিয়া ওরফে কাজল ও নাসিমা আক্তার কনা। আজ বুধবার ময়মনসিংহ পিবিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
পিবিআই-এর ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গত ১৯শে জুন প্রেমের টানে ঘর ছাড়েন ময়মনসিংহের চর ঈশ্বরদিয়া পূর্বপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকা একই গ্রামের খুকি আক্তার। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য খুকির বাবা-মা লাইলী বেগমকে চাপ দিতে থাকেন। অন্যথায় তাদের দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। ১০ দিন পার হওয়ার পরেও মেয়েকে ফিরে না পেয়ে খোকন মিয়া ও নাসিমা আক্তার অন্যদের নিয়ে গত ২৮ জুন সকাল ৯টায় ছেলের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ করতে থাকেন। আব্দুর রশিদের অনুপস্থিতিতে তারা তার স্ত্রী লাইলী আক্তারের মুখ চেপে ধরে হাত, পা বিদ্যুতের কালো তার দিয়ে বেঁধে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়। লাইলী আক্তারকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেফার্ড করেন।
ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় লাইলী আক্তারের স্বামী আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এর আগে থানা পুলিশ আসামি জাহাঙ্গীর ও আছমাকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার মূল আসামি খোকন মিয়া ওরফে কাজল ও নাসিমা আক্তার কনা আত্মগোপনে ছিলেন। ঘটনাটি ছায়াতদন্তের একপর্যায়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি টিমের সহযোগিতায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে খোকন মিয়া ও নাসিমা আক্তার কনাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
<p>সম্পাদক: কাজী মফিজুল ইসলাম</p>
Copyright © 2026 বরিশাল প্রতিদিন. All rights reserved.