বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি : আরো ২ জেলের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২২

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি : আরো ২ জেলের লাশ উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ১২ জেলের মধ্যে থেকে আলমগীর সরদার ও ইসমাইল খান নামে আরো দুই জেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। আজ সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পশ্চিম সাগরের ৬ নম্বর বয়া এলাকায় ভাসমান অবস্থায় আলমগীরের এবং আগের দিন রবিবার সকালে ডুবো ট্রলারের ভেতর থেকে ইসমাইলের লাশ উদ্ধার করেন স্বজন ও স্থানীয় জেলেরা।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার জানখালী গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মুন্সীর ট্রলারের জেলে তাঁরা। আলমগীর সরদার জানখালী গ্রামের মো. নূরু সরদারের ছেলে এবং ইসমাইল খান একই গ্রামের আ. আজিজ খানের ছেলে।

বিজ্ঞাপন
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন বিভাগ ও নিহতের পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ নিয়ে গত তিন দিনে চার জেলের মৃতদেহ উদ্ধার হলো। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল সোয়া ৫টা) ইলিশ আহরণকারী সাত জেলে এবং দুবলার শুঁটকিপল্লীর তিন জেলেসহ মোট ১০ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড, বন বিভাগ, স্বজন ও স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঠবাড়িয়ার জানখালী গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আ. হালিম জানান, গত শুক্রবার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে অন্যান্য ট্রলারের সঙ্গে তাঁদের গ্রামের হারুন মুন্সীর এফবি জামিলা ট্রলারটিও ১৪ জেলেসহ ডুবে যায়। এর মধ্যে ১১ জনকে অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করলেও তিন জেলে নিখাঁজ হন। তিনজনের মধ্যে আলমগীর সরদার ও ইসমাইল খানের লাশ পাওয়া যায়। এখনো বাচ্চু মিয়া নামের এক জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়ি মঠবাড়িয়ার ছোট মাছুয়া গ্রামে।

মৎস্য ব্যবসায়ী আ. হালিম আরো জানান, ইসমাইলের লাশ সোমবার সকালে তাঁর নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। জেলে বাচ্চু মিয়াকে খুঁজতে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় জেলেরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলার দুটি বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাট মৎস্য আড়তদার সমিতির সহসভাপতি মো. আব্দুল মান্নান ব্যাপারী জানান, মৎস্য ব্যবসায়ী আনিস সরদারের এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের আট জেলের মধ্যে ইয়াকুব সরদার ও মামুনের লাশ শনিবার কোস্ট গার্ড উদ্ধার করে। এই ট্রলারের আরো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া মৎস্য ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেনের এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের এক জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এসব জেলের সন্ধানে ছয়টি ট্রলারে ৪০-৫০ জন জেলে ও তাঁদের স্বজনরা দুই দিন ধরে সাগরে তল্লাশি করছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় জানান, আলমগীর সরদার নামে আরো এক জেলের লাশ সাগরে ভাসমান অবস্থায় জেলেরা উদ্ধার করেছেন। লাশ নিয়ে তাঁর বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন উদ্ধারকারী জেলেরা।

ওসি প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় আরো জানান, দুবলার শুঁটকিপল্লীর তিন জেলের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁরা হলেন খুলনার কয়রার মিজান ব্যাপারী, বাগেরহাটের রামপালের দুর্গাপুর গ্রামের শাহিনুর এবং মোংলার বকুলতলা গ্রামের মফিজুল ইসলাম। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, বনরক্ষী এবং ১৫ থেকে ২০টি ট্রলারে শতাধিক জেলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। এ ছাড়া ডুবে যাওয়া ১১টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো দুটি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মোংলার অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মামুনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পিসিজিএস তৌফিক নামের একটি জাহাজ এবং দুটি স্পিডবোট সাগরের প্রায় ২০ মাইল এলাকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আমরা এ পর্যন্ত দুই জেলের লাশ এবং তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছি। এ ছাড়া দুটি বোটের সন্ধান পাওয়ার পর তাদের মালিকরা সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। ‘

সংবাদটি শেয়ার করুন