রাজাপুরে ম্যানেজিং কমিটি বিরোধ ॥ বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

রাজাপুরে ম্যানেজিং কমিটি বিরোধ ॥ বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটিকে মেনে না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বোর্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে নতুন কমিটি নিয়ে সভা করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক। এতে বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সই ছাড়া তাঁরা বেতন তুলতে পারছেন না।
গত ২৯ অক্টোবর বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের জন্য নতুন ম্যানেজিং কমিটি (এডহক) গঠন করে দেয়। কমিটিতে সভাপতি করা হয় বিদ্যালয়ের দাতা মো. মহিদুল ইসলামকে। পদাধিকার বলে সদস্য সচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক, শিক্ষক সদস্য আইরিন সুলতানা ও অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে দেলোয়ার হোসেন জোমাদ্দারকে।
জানা যায়, অবিভক্ত বাংলার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা ও বাংলার অবিসংবাদিত নেতা ‘বাংলার বাঘ’ খ্যাত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁর জন্মস্থান ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ার গ্রামে ১৯৪১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাতুরিয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে রয়েছে তাঁর নানা স্মৃতি। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে দীর্ঘ দিন ধরে ছিলেন তানভির রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় কমিটির মেয়দোত্তীর্ণ হয়ে গেলে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ নতুন এডহক কমিটি করে দেন। এতে তাকে রাখা হয়নি। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক সাবেক সভাপতি তানভির রহমানের নামই প্রস্তাব করেছিলেন। নিজের পছন্দের লোককে এডহক কমিটির সভাপতি না করায় ক্ষুব্দ হন প্রধান শিক্ষক। তিনি নতুন এডহক কমিটিকে মেনে নিচ্ছেন না। নতুন কমিটি ঘোষণার ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি কোন সভা আহ্বান করেননি। নতুন কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় অক্টোবর মাসের বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষক ও কর্মচারীরা। প্রধান শিক্ষকের খামকেয়ালিপনায় বিব্রত হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।
নতুন এডহক কমিটির সভাপতি মো. মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২৯ অক্টোবর বরিশাল শিক্ষা বোর্ড নতুন এডহক কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখনো কোন সভা ডাকেনি। তাকে বলা হলে সে নানা টালবাহানা করছেন। এতে আমরা বিব্রত হচ্ছি। আমরা বিদ্যালয়ের জমির দাতা, প্রধান শিক্ষক আমাদের কোন মূল্যায়নই করছেন না। ছয় মাসের কমিটির এক মাস যাচ্ছে দায়িত্ব না পেয়েই। ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, সাবেক কমিটির সভাপতি নতুন কমিটির ব্যাপারে বোর্ডে আপত্তি জানিয়েছে। এটা নিস্পত্তির জন্য রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই পক্ষকে ডেকেছেন। বিষয়টি অল্পদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে। এখানে আমার কোন পছন্দ অপছন্দের বিষয় নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ